১নং নির্দেশনার উত্তরঃ
খাদ্যের উপাদানঃ
খাদ্যের উপাদান ছয়টি। এগুলো হচ্ছে- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং পানি। এগুলোর মধ্যে শর্করা,
আমিষ ও স্নেহ পদার্থ (বা ফ্যাট) দেহ পরিপোষক খাদ্য। খাদ্যের স্নেহ এবং শর্করাকে বলা হয় শক্তি উৎপাদক খাদ্য এবং আমিষযুক্ত খাদ্যকে বলা হয় দেহ গঠনের খাদ্য। ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি দেহ সংরক্ষক খাদ্য উপাদান। যেগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
নিম্নে খাদ্য উপাদান অনুযায়ী ২৫টি খাদ্যের নাম ছক আকারে উপস্থাপন করা হলোঃ
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক সুষম খাদ্যের বিভাজনের পাই চার্ট উপস্থাপন করা হলোঃ
একজন পূর্ণবয়সের শারীরিক পরিশ্রম করা মানুষের দৈনিক ২০০০-২৫০০ কিলোক্যালরি খাবার গ্রহণ করা উচিৎ। ভিটামিন, খনিজ লবণ, রাফেজ বা আঁশের জন্য এর সাথে প্রয়োজনীয় শাক-সবজি এবং ফল খাওয়া প্রয়োজন।
৩নং নির্দেশনার উত্তরঃ
খাদ্য তালিকা থেকে প্রাপ্ত ভিটামিনগুলোর নাম অভাবজনিত রোগের নাম এবং প্রতিকারের উপায় বর্ণনা করা হলোঃ
ভিটামিন বা খাদ্যপ্ৰাণঃ
যে জৈব খাদ্য উপাদান সাধারণ খাদ্যে অতি অল্প পরিমাণে থেকে দেহের স্বাভাবিক পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি। করে,তাকে ভিটামিন বলে।
ভিটামিন A অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকারঃ
ভিটামিন A এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের । কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে। ভিটামিন A- এর অভাবে। দেহের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনেক সময় ঘা, সর্দি, কাশি, গলাব্বাছ ইত্যাদি উপসর্গও দেখা দেয়। ভিটামিন 'এ' এর ঘাটর্তিটিয়ে ওঠার সেরা চিকিৎসা হ'ল ভিটামিন 'এ' যুক্ত ডায়েট নেওয়া। সবুজ পাতা এবং শাকসবজি এবং হলুদ এবং কমলা শাকসী নিজের আহারে অন্তর্ভুক্ত করুন। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'এ' পাওয়া যায়।
ভিটামিন B অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকারঃ
ভিটামিন B-এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হ্য, ত্বক খসখসে হয়। চোখ দিয়ে পানি পড়ে। এর অভাবে তীব্র আলোতে চোখ ।। খুলতে অসুবিধা হয়। ডাল এবং পর্ণ শস্য জাতীয় খাবারে এই ভিটামনটি প্রচুর পরিমাণে থাকে। সাধারণত সামুদ্রিক মাছ, মাংস এবং বাদামে ভিটামিন বি-৩ পাওয়া যায়। নিয়মিত ডিম, বাদাম, দুগ্ধজাত খাবার, ব্রোকোলি, পূর্ণ শস্য এবং শিম খেলে শরীরে এই ভিটামিনটির ঘাটতি দূর হয়।
ভিটামিন C অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকারঃ
ভিটামিন C- এর তীব্র অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। এর অভাবে অস্থির গঠন শক্ত ও মজবুত হতে পারে না। ত্বকে ঘা হ্য, ক্ষত শুকাতে দেরি হয়। দাঁতের মাড়ি ফুলে। দাঁতের ইনামেল উঠে যায়। আমলকী, লেবু, কমলালেবু, টমেটো, আনারস, পেয়ারা ইত্যাদি ভিটামিন C- এর উৎস। তাই এগুলো নিয়মিত খেলে। এর অভাব পূরণ করা যায়।
ভিটামিন D অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকারঃ
ভিটামিন D- এর অভাবে শিশুদের রিকেট রোগ হতে পারে। দৈনিক চাহিদা থেকে বেশি পরিমান ভিটামিন D গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হয়। এর ফলে সাক ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হওয়ায় রক্তে এদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যে কারণে বৃক্ক (কিডনি), হৃৎপিণ্ড, ধমনি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে। ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন D-এর প্রধান উৎস। বাঁধাকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে। ভিটামিন D পাওয়া যায়। তাই এগুলো নিয়মিত খেলে এর অভাব পূরণ করা যায়।
ভিটামিন E অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকারঃ
RAZU PAUL
ভিটামিন E- এর অভাবে জরায়ুর মধ্যে ভ্রুণের মৃত্যুও হতে পারে। দৈনিক সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে এই ভিটামিনের বিশেষ অভাব হয় না। শস্যদানার তেল (Corn oil), ভুলা বীজের তেল, সূর্যমুখী বীজের তেল, লেটুস পাতা ইত্যাদিতে ভিটামিন E পাওয়া যায়। মানুষের শরীরে ভিটামিন E হলো এন্টিঅক্সিডেন্ট, যেটি ধর্মনিতে চর্বি জমা রোধ করে এবং সুস্থ ত্বক বজায় রাখে। এ ছাড়া ভিটামিন E কোষ গঠনে সাহায্য করে এবং মানুষ। এবং অন্যান্য প্রাণীর বন্ধ্যাত্ব দূর করে।
ভিটামিন K অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকারঃ
যকৃত থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়। পিত্তরস নিঃসরণে অসুবিধা হলে ভিটামিন কেএর শোষণ কমে যায়। ভিটামিন 'কে'- এর অভাবে ত্বকের নিচে ও দেহাভ্যন্তরে যে রক্ত ক্ষরণ হয় তা বন্ধ করার ব্যবস্থা না নিলে রোগী মারা যেতে পারে। ভিটামিন কে সম্পূরক খাওয়ার ওষুধ অথবা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ। ভিটামিন কে সমৃদ্ধ খাদ্যগ্রহণ, যেমন সবুজ পাতাওয়ালা সবজি, বাঁধাকপি, ব্রোকোলি।
৪ নং নির্দেশনার উত্তরঃ
নিম্নে খাদ্য তালিকায় প্রাপ্ত খনিজ পদার্থের নাম ও কাজ উল্লেখ্য করা হলোঃ
লৌহ (Fe)ঃ
লৌহ রক্তের একটি প্রধান উপাদান। প্রতি ১০০ml রক্তে লৌহের পরিমাণ প্রায় ৫০ mg। যকৃৎ, প্লীহা, অস্থিমজ্জা এবং লোহিত রক্তকণিকায় এটি সঞ্চিত থাকে। লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে ফুলকপির পাতা, নটেশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম, বজরা ইত্যাদি। গ্রাণিজ উৎস হচ্ছে। মাছ, মাংস, ডিম, যকৃৎ ইত্যাদি। লৌহের প্রধান কাজ হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করা। হিমোগ্লাবিনের পরিমাণ কমে গেলে রক্তশূন্যতা রোগ হয়। রক্তশূন্যতা রোগের লক্ষণ চোখ ফ্যাকাসে হওয়া, হাত-পা ফোলা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড় করা ইত্যাদি।
ক্যালসিয়াম (Ca)ঃ
এটি প্রাণীদের হাড় এবং দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেযে বেশি। অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে। যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। হাড় এবং দাঁতের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রযোজনীয় খনিজ পদার্থ। এ ছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেস্যি রোগ হয়।
ফসফরাস (P)ঃ
দেহে পরিমাণের দিক থেকে খনিজ লবণগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরই ফসফরাসের স্থান। ফসফরাস ও ক্যালসিয়ামের মতো হাড়ের একটি প্রধান উপাদান। ফসফরাস হাড়, যকৃৎ এবং রক্তরসে সঞ্চিত থাকে। নিউক্লিক এসিড, নিউক্লিয গ্রোটিন তৈরি এবং শর্করা বিপাকের দ্বারা শক্তি উৎপাদনে ফসফরাস প্রধান ভূমিকা রাখে। ক্যালসিয়ামের মতো হাড় এবং দাঁত গঠন করা ফসফরাসের প্রধান কাজ। ফসফরাসের অভাবে রিকেটস, অস্থিরতা, দন্তক্ষয় এইসব রোগ দেখা দেয়। খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকলে ফসফরাসের অভাব হয় না।
পানি (Water)ঃ
পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান। মানবদেহের জন্য পানি অপরিহার্য। দেহের গঠন এবং অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না। আমাদের দৈহিক ওজনের ৬০%-৭৫% হচ্ছে পানি। আমাদের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রযোজন। দেহকোষ গঠন এবং কোষের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া পানি ছাড়া কোনোভাবেই সম্পন্ন করা সম্ভব না। পানির মাধ্যমে শরীর গঠনের নানা প্রয়োজনীয় উপাদান শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পরিবাহিত হয়। এটি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে। বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়।


0 Comments